কালার থিওরি (Color Theory) হলো রং সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও শৈল্পিক ধারণার সমষ্টি, যার মাধ্যমে রঙের ব্যবহার, সংমিশ্রণ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়। অর্থাৎ, কোন রঙের সাথে কোন রঙ মিললে সুন্দর ও সুষম দেখাবে— সেই নিয়ম ও নীতিকেই কালার থিওরি বলা হয়।
কালার থিওরি মূলত রঙের চাকা (Color Wheel), রঙের ধরন এবং রঙের সামঞ্জস্যের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
রঙের প্রধান প্রকারভেদ:
১। প্রাথমিক রং (Primary Color)
যে রং অন্য কোনো রং মিশিয়ে তৈরি করা যায় না। যেমন— লাল, নীল, হলুদ।
২। মাধ্যমিক রং (Secondary Color)
দুটি প্রাথমিক রং মিশিয়ে যে রং তৈরি হয়। যেমন—
লাল + হলুদ = কমলা
নীল + হলুদ = সবুজ
লাল + নীল = বেগুনি
৩। তৃতীয়িক রং (Tertiary Color)
একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক রং মিশিয়ে যে রং তৈরি হয়।
রঙের সম্পর্কের ধরন:
১। Complementary Color (পরিপূরক রং)
কালার হুইলে একে অপরের বিপরীত অবস্থানে থাকা রংকে পরিপূরক রং বলে। এই রংগুলো একসাথে ব্যবহার করলে শক্তিশালী বৈপরীত্য সৃষ্টি হয় এবং ডিজাইন বেশি আকর্ষণীয় হয়। যেমন— লাল ও সবুজ, নীল ও কমলা।
২। Analogous Color (সন্নিহিত রং)
কালার হুইলে পাশাপাশি অবস্থানকারী তিন বা ততোধিক রংকে সন্নিহিত রং বলে। এই রংগুলো একসাথে ব্যবহার করলে ডিজাইনে সামঞ্জস্য ও শান্ত ভাব সৃষ্টি হয়। যেমন— নীল, নীল-সবুজ ও সবুজ।
৩। Monochromatic Color (একবর্ণ স্কিম)
একই রঙের হালকা ও গাঢ় বিভিন্ন শেড, টিন্ট ও টোন ব্যবহার করাকে মনোক্রোম্যাটিক রং বলা হয়। এতে ডিজাইন সহজ, মার্জিত ও পরিপাটি দেখায়। যেমন— হালকা নীল, গাঢ় নীল, আকাশি।
৪। Triadic Color (ত্রিবর্ণ স্কিম)
কালার হুইলে সমদূরত্বে অবস্থিত তিনটি রং একসাথে ব্যবহার করলে তাকে ট্রায়াডিক কালার বলে। এই স্কিমে ভারসাম্য ও উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। যেমন— লাল, হলুদ ও নীল।